bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আল-মুদ্দাসসির (পরিবেষ্টিত)

হে বস্ত্রাবৃত!

উঠ, অতঃপর সতর্ক কর।

আর তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।

আর তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র কর।

আর অপবিত্রতা বর্জন কর।

আর অধিক পাওয়ার আশায় দান করো না।

আর তোমার রবের জন্যই ধৈর্যধারণ কর।

অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে,

আর সেদিন হবে কঠিন দিন।

কাফিরদের জন্য সহজ নয়।

আমাকে এবং যাকে আমি সৃষ্টি করেছি তাকে একাকী ছেড়ে দাও।

আর আমি তাকে দিয়েছি অঢেল সম্পদ,

আর উপস্থিত অনেক পুত্র।

আর তার জন্য [জীবনকে] সুগম স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছি।

এসবের পরেও সে আকাংখা করে যে, আমি আরো বাড়িয়ে দেই।

কখনো নয়, নিশ্চয় সে ছিল আমার নিদর্শনাবলীর বিরুদ্ধাচারী।

অচিরেই আমি তাকে জাহান্নামের পিচ্ছিল পাথরে আরোহণ করতে বাধ্য করব।

নিশ্চয় সে চিন্তা ভাবনা করল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।

অতঃপর সে ধ্বংস হোক! কীভাবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল?

তারপর সে ধ্বংস হোক! কীভাবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল?

তারপর সে তাকাল।

তারপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করল এবং মুখ বিকৃত করল।

তারপর সে পিছনে ফিরল এবং অহংকার করল।

অতঃপর সে বলল, ‘এ তো লোক পরম্পরায়প্রাপ্ত যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়’।

‘এটা তো মানুষের কথামাত্র’।

অচিরেই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাব।

কিসে তোমাকে জানাবে জাহান্নামের আগুন কী?

এটা অবশিষ্টও রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না।

চামড়াকে দগ্ধ করে কালো করে দেবে।

তার উপর রয়েছে ঊনিশজন [প্রহরী]।

আর আমি ফেরেশতাদেরকেই জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক বানিয়েছি। আর কাফিরদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ আমি তাদের সংখ্যা নির্ধারণ করেছি। যাতে কিতাবপ্রাপ্তরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে; আর মুমিনদের ঈমান বেড়ে যায় এবং কিতাবপ্রাপ্তরা ও মুমিনরা সন্দেহ পোষণ না করে। আর যেন যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা এবং অবশিষ্টরা বলে, এরূপ উপমা দ্বারা আল্লাহ কী ইচ্ছা করেছেন? এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন আর যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আর তোমার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানেন না। আর এ হচ্ছে মানুষের জন্য উপদেশমাত্র।

কখনো নয়, চাঁদের কসম!

রাতের কসম, যখন তা সরে চলে যায়,

প্রভাতের কসম, যখন তা উদ্ভাসিত হয়।

নিশ্চয় জাহান্নাম মহাবিপদসমূহের অন্যতম।

মানুষের জন্য সতর্ককারীস্বরূপ।

তোমাদের মধ্যে যে চায় অগ্রসর হতে অথবা পিছিয়ে থাকতে, তার জন্য।

প্রতিটি প্রাণ নিজ অর্জনের কারণে দায়বদ্ধ।

কিন্তু ডান দিকের লোকেরা নয়,

বাগ-বাগিচার মধ্যে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে,

অপরাধীদের সম্পর্কে,

কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাল?

তারা বলবে, ‘আমরা সালাত আদায়কারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না’।

‘আর আমরা অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করতাম না’।

‘আর আমরা অনর্থক আলাপকারীদের সাথে [বেহুদা আলাপে] মগ্ন থাকতাম’।

‘আর আমরা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করতাম’।

'অবশেষে আমাদের কাছে মৃত্যু আগমন করে'।

অতএব সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকার করবে না।

আর তাদের কী হয়েছে যে, তারা উপদেশ বাণী হতে বিমুখ?

তারা যেন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পলায়নরত বন্য গাধা।

যারা সিংহের ভয়ে পলায়ন করেছে।

বরং তাদের মধ্যকার প্রত্যেক ব্যক্তিই কামনা করে যে তাকে উন্মুক্ত গ্রন্থ প্রদান করা হোক।

কখনও নয়! বরং তারা আখিরাতকে ভয় করে না।

কখনও নয়! এটিতো উপদেশ মাত্র।

অতএব যার ইচ্ছা সে তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করুক।

আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করতে পারে না। তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী।